সোমবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১১ আশ্বিন ১৪২৯
করোনাসংঙ্কটকালে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো যেন সরকারের মনোযোগের বাইরে ।। মাহবুবুল আলম
পদক্ষেপনিউজ
Published : Tuesday, 30 June, 2020 at 4:05 AM, Update: 08.07.2020 11:14:31 AM, Count : 651
করোনাসংঙ্কটকালে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো যেন সরকারের মনোযোগের বাইরে  ।।  মাহবুবুল আলম
কোভিড-১৯ বা করোনা মহামারীর কারণে কিছুতেই থামছে না মৃত্যুর মিছিল। প্রতিদিন লাশ হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ।আক্রান্তের সীমা কোটির ঘর ছাড়িয়ে গেছে।আর আমাদের বাংলাদেশে প্রতিদিন করোনায় গড়ে ৩৫ থেকে ৪০ জন মারা যাচ্ছে, আক্রান্ত হচ্ছে গড়ে ৩৮০০ লোকের মতো।  বিশ্বের চিকিৎসা ব্যবস্থা অনেক দূর এগিয়ে গেছে। কিন্তু কোভিড-১৯ এর কাছে চিকিৎসা বিজ্ঞান আজ ব্যর্থ ও পরাজিত। বিজ্ঞ নামিদামী চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা শত চেষ্টা করেও করোনা ভাইরাসকে পরাস্ত করতে পারছে না। অন্যদিকে রয়েছে অর্থনৈতিকভাবে অচল হয়ে খাবারের অভাবে মানবেতর জীবন যাপন এবং বিশ্বের কয়েক কোটি মানুষ কর্ম হারিয়ে বেকার। ফলে না খেয়ে থাকতে হচ্ছে অনেক পরিবারকে। করোনাকালের এই মহাদুর্দিনে চরম শংকটে পড়েছে বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। সীমিত আয়ে যাদের জীবন জীবন চলে, ছোট চাকরি, ছোট ব্যবসা যাদের জীবিকা চলতো। কিন্তু স্বপ্ন ছিল অনেক বড়। ছোট বাসায় থেকেও অনেকে অনেক বড় বাসার স্বাপ্ন দেখতো। কোনো কারণে পাঁচ-সাত দিন আয়-রোজগারের পথ বন্ধ হলেই মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোতে নেমে আসে অশান্তি। সেখানে অনির্দিষ্টকাল ধরে অনেক মধ্যবিত্ত পরিবারের আয়-রোজগার বন্ধ। সরকারি চাকরিজীবী মধ্যবিত্তরা হয়তো একটু নিরাপদ আছে। বাংলাদেশে মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ সবচাইতে বেশি। দেশের ক্রান্তিকালে এই শ্রেণির মানুষের দুঃখ দুর্দশা সবচাইতে বেশি।

বিশেষ করে মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ সামাজিক মর্যাদার কথা চিন্তা করে নিজেদের অভাব অনটনের কথা প্রকাশ করার মত কোন উপায় ও থাকেনা। কিন্তু কারোনাকালের এ মহাদুর্দিনে তাদের কপালে বাড়ছে-দুশ্চিন্তার ভাঁজ। লোক চক্ষুর অন্তরালে নিরবে নিভৃতে নির্জনে অশ্রু বিসর্জন দিতে হচ্ছে তাদের। করোনার চেয়ে ভয়ংকর যন্ত্রণা হলো পেটের ক্ষুধা। যেটা নিবারণের জন্য প্রতিনিয়ত নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষদের লড়াই করতে হয়। যাদের নুন আনতে পান্তা ফুরিয়ে যায় তারা করোনার ভয়ে ভীত নন। ক্ষুধার জ্বালা মধ্যবিত্তদের ক্ষেত্রেই সবচেয়ে বেশী পরিলক্ষিত হচ্ছে। তারা লোকলজ্জার ভয়ে কারো কাছে বলতে ও পারছেনা। আবার অনেক জনপ্রতিনিধি ও তাদের সেভাবে কোন খোঁজ নিচ্ছেন না।  দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার পড়েছে অথৈ সাগরে। একে তো করোনার ভয়, উপরন্তু আর্থিক অনিশ্চয়তা। আয়-রোজগার বন্ধ। এক অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ দেশের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে অস্থির করে তুলেছে। এমন হচ্ছে যে সমস্ত বয়স্ক মধ্যবিত্ত মানুষ নানা অসুখে-বিসুখে কাবু, যাদের মাসে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকার অসুধ লাগে তাদের সিংহভাগই এখন তাদের নিত্য দিনের অসুধ কিনতে পারছেন না এতে অতিশ্রীগ্রই তাদের জীবনে স্বাস্থ্যবিপর্যয় নেমে আসতে পারে। এর কারণে অনেক বয়স্ক চিকিৎসা ও ঔষধের অভাবে মৃত্যুমুখেও পতিত হতে পারে।  

যেহেতু মধ্রবিত্ত লোকেরা কাউকে কষ্টের কথা বলতে ইচ্ছুক নন, নিজের বুকের মধ্যে রাখেন নিজের কষ্ট লুকিয়ে, তাই তারা বঞ্চিত থাকেন। সমাজ তাকে বঞ্চিত করে; রাষ্ট্র তার পাশে থাকে না। হয়তো রাষ্ট্র তাদের কষ্টকে অনুধাবনই করে না। অথচ তারা ভেঙে যান, সমস্যায় জর্জরিত হয়ে থাকেন, অভাবে কষ্ট পান। এই যেমন করোনার কারণে মানুষ এখন একপ্রকার ঘরবন্দি, কাজ নেই, আয় নেই। যাদের  হাতে যা পয়সা ছিল, তা শেষ হয়ে গেছে। যাদের হাতে কিছু নেই, তাদের খাবার কষ্ট শুরু হয়ে গেছে। পত্রিকায় দেখেছি অনেকে গরিব মানুষের পাশাপাশি সাহায্যের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছেন; কিন্তু তাদেরকে পোশাক-আশাকে যথেষ্ট গরিব নয় বলে সাহায্য দেওয়া হয়নি।

এর সাথে যুক্ত হয়েছে মূল্যবৃদ্ধির অস্থিরতা। জীবন যাপনের সবচে বড় চালের দামও বাড়ছে করোনার সাখে প্ল্লা দিয়ে। বাড়ছে অন্যন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মোটামুটি আয়ের পরিবারে সবচেয়ে জনপ্রিয় মিনিকেট চালের দাম কেজিতে ৭ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বিভিন্ন জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের এক কেজি চাল কিনতে লাগছে ৫০ থেকে ৫৪ টাকা। ভালো মানের মোটা চালের দাম ৫ টাকার মতো বেড়ে কেজি উঠেছে ৪০ টাকায়।চালের আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে বেড়েছিল মোটা দানার মসুর ডালের দাম। কেজিতে প্রায় ২০ টাকা। এ ডাল আবার নিম্ন আয়ের মানুষ বেশি কেনে। অ্যাংকর ডাল ও মুগ ডালের দামও কিছুটা বাড়তি।  এরই মধ্যে কয়েক ধাপে বেড়েছে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম, লিটারে ১৫ থেকে ২০ টাকা। বোতলের তেলও লিটারে ৮ টাকা বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। চিনির দাম কেজিতে ৫ থেকে ৭ টাকা বেড়েছে। আটা নিয়ন্ত্রণে আছে, কিন্তু ময়দার দাম অনেক দিন ধরেই চড়া। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) হিসাবে, ২০১৯ সালে ঢাকায় মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে সাড়ে ৬ শতাংশ, যা আগের বছর বৃদ্ধির হার ছিল ৬ শতাংশ। ক্যাব বলেছে, গেল বছর জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেশি হারে বাড়ত, যদি চাল, ডাল, তেল, চিনির দাম কম না থাকত। কিন্তু নতুন বছরের শুরুতেই দেখা গেল, চাল-ডালের দামই বাড়তি।শুধু বাজারেই যে অস্বস্তি, তা নয়। অনেকের বাসাভাড়া বেড়েছে, দুই শয়নকক্ষের বাসার ক্ষেত্রে বাড়ার পরিমাণ ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা। তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বেড়েছে এক সিলিন্ডারে (১২ কেজি) ২০০ টাকা। এ মাসেই অনেক এলাকায় ডিশ বিল, ময়লা নেওয়ার বিল বাড়িয়েছেন সেবাদাতারা।

তাহলে কীভাবে মধ্যেভিত্ত সংসার চলবে। এমবিএ করে বেসরকারি চাকুরে ১৫০০০ টাকা বেতন পায়। নতুন স্কেলে সরকারের একটা পিওন পদের চাকুরে ২০০০০ টাকা বেতন পায়। তাহলে দ্রব্য মুল্য আকাশ ছুবেই। এটা বেতন বাড়ানোর সময় বলা হয়েছে মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মরতদের অনেকে বেতন পাচ্ছেন না৷ সঞ্চিত অর্থ শেষের পথে, আছেন চাকুরি হারানোর শঙ্কায়৷ সরকারের কোন প্রণোদনার মধ্যেও নেই তারা৷ ফলে চলমান লকডাউনের মধ্যে মহাসংকটে পড়েছেন বাংলাদেশে ‘গৃহবন্দি’ কয়েক কোটি মধ্যবিত্ত৷ অর্থনীতিবিদরা মনে করেন এইসব পরিবারের অনেকেই এখন নিম্নবিত্তের স্তরে নেমে আসছেন৷ সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমানমতে, ‘‘বাংলাদেশে ১৬ কোটি মানুষের চার কোটি পরিবার আছে৷ এর মধ্যে নিম্নবিত্ত ২০ ভাগ আর উচ্চবিত্ত ২০ ভাগ৷ মাঝের যে ৬০ ভাগ এরা নিম্ন, মধ্য ও উচ্চ মধ্যবিত্ত৷ এই সংখ্যা আড়াই কোটি পরিবার হবে৷ এর মধ্যে সরকারি চাকুরিজীবী, মাল্টিন্যাশনাল ও বড় কোম্পানিতে কাজ করা কিছু মানুষ বাদে অন্যরা সবাই সংকটে আছেন৷ এদের মধ্যে বড় একটা অংশ চাকুরি ঝুঁকিতে আছেন৷ অনেকেরই বেতন হয়নি, অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে৷ ফলে তারা বেতন তো পাননি, উল্টো চাকুরি ঝুঁকিতে আছেন৷ এই মানুষগুলো সরকারি কোন কর্মসূচির মধ্যেও নেই৷ তবে সরকার এসএমই ঋণ দিয়ে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্তদের বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছে৷ তবে এই সংখ্যাও খুব বেশি না৷ বিপুল জনগোষ্ঠী এখনও সহায়তার বাইরে৷

এমন পরিস্থিতিতে কিভাবে চলছেন দেশের কয়েক কোটি মধ্যবিত্ত? পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘‘মধ্যবিত্তের কিছু সঞ্চয় থাকে৷ গেল মাসের তারা সেই সঞ্চয় ভেঙে খাচ্ছে৷ এভাবে আরেকমাস চললে তাদের সেই সঞ্চয়ও শেষ হয়ে যাবে৷ তখন কি পরিস্থিতি দাঁড়াবে? বিপুল সংখ্যক মধ্যবিত্ত এই পরিস্থিতিতে নিম্নবিত্তে পরিণত হবেন৷ সবচেয়ে বড় সংকট হবে যখন সবকিছু স্বাভাবিক হবে তখন তো বিপুল সংখ্যক মানুষ চাকুরি হারাবেন৷ উন্নত দেশে তো বেকার ভাতা দেওয়া হয়৷ এখানে সেই ব্যবস্থা নেই৷ তাহলে এই মধ্যবিত্ত বেকার শ্রেণী কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? সরকারের যে প্রনোদনা সেখানেও কিছু মধ্যবিত্তের কোন অবস্থান নেই৷ আবার আমাদের যে ব্যবস্থা সেখানে সরকার চাইলেও মধ্যবিত্তকে কিছু করতে পারে না৷ আসলেই বাংলাদেশে মধ্যবিত্তরা ভয়াবহ সংকটে আছেন।’

অফিসে (ফরমাল সেক্টর) চাকরি করেন এমন ১৩ ভাগ মানুষ করোনায় এপর্যন্ত কাজ হারিয়েছেন। চাকরি আছে কিন্তু বেতন নেই এমন মানুষের সংখ্যা আরো বেশি। আর ২৫ ভাগ চাকরিজীবীর বেতন কমে গেছে। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিআইডিএস-এর এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। সরকার এরইমধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ২৫টি পাটকলে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাটমন্ত্রী এর আগে পাটকলগুলো বন্ধের কথা বললেও এবার কৌশলে গোল্ডেন হ্যান্ডশেক বলে এগোচ্ছে বলে পাটকল শ্রমিক নেতারা মনে করছেন। সরকারের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে প্রায় ৭০ হাজার শ্রমিক চাকরি হারাবেন। পাটকল শ্রমিক আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক খলিলুর রহমান বলেন, ‘‘করোনা মহামারির মধ্যে সরকারের এই সিদ্ধান্ত অমানবিক।”সরকার স্থায়ী ২৫ হাজার শ্রমিককে স্বেচ্ছা অবসরে পাঠানোর কথা বললেও বাস্তবে একই কারণে অস্থায়ী ও বদলি শ্রমিকদেরও চাকরি থাকবেনা। গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের হিসেবে করোনার মধ্যে এখন পর্যন্ত এক লাখ ২৫ হাজার পোশাক শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন। কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার জানান, ‘‘এখনো শ্রমিক ছাঁটাই চলছে। প্রতিদিনই শ্রমিকরা কাজ হারাচ্ছেন। আগে যাদের চাকরির বয়স এক বছরের কম তাদের ছাঁটাই করা হয়েছে। এখন যাদের চাকরির বয়স বেশি, বেতন বেশি তাদের ছাঁটাই করা হচ্ছে।”বেসরকারি ব্যাংক মালিকরা ছাঁটাই না করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কমিয়ে দিচ্ছে কেউ কেউ কমিয়ে দেয়ার কাথা ভাবছেন।।

বেসরকারি শিক্ষকদের চাকরি আছে, বেতন নেই। যারা এমপিওভুক্ত তারা মোট বেতনের সরকারের দেয়া ৬৫ ভাগ বেতন পাচ্ছেন। সরকারি চাকরি যারা করেন তাদের বেতন নিয়ে এখনো কোনো সংকট তৈরি হয়নি। কিন্তু করোনার এই দুঃসময়ে মোটামুটি জীবন যাপন করাটা অনেক দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছে মধ্যবিত্তের জন্য। মধ্যবিত্তের কষ্ট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন লিখেছেন, ‘নীরবে ভিজে যায় চোখের পাতা। কষ্টের আঘাতে বেড়ে যায় বুকের ব্যথা, জানি না এভাবে কাটাতে হবে কত দিন? আমার এই জীবনে কি আসবে না সুখের দিন?’ সুখ তো পরের কথা। এখন প্রয়োজন করোনা থেকে বেঁচে থাকার সংগ্রামে পারস্পরিক সহযোগিতা। সেখানে ‘মধ্যবিত্তরা’ সমাজের একটি বড় অংশ। চলমান সংকটে তাদের জন্যও একটি সমন্বিত পরিকল্পনা জরুরি।উচ্চবিত্তের দারুণ আনন্দ। কেউ কেউ হাত খুলে সাহায্য দিচ্ছেন। নিম্ন আয়ের মানুষ কোনো সংকোচ ছাড়াই সেই সাহায্য গ্রহণ করছে। কিন্তু আমাদের মতো নিম্নমধ্যবিত্ত, এমনকি মধ্যবিত্ত স্তরের মানুষেরা পড়েছি চরম বিপাকে। না পারছে হাত পাততে, না পারছে কাউকে কিছু বোঝাতে।’প্রয়াত লেখক, চলচ্চিত্রকার সবার প্রিয় হুমায়ূন আহমেদ যথার্থই বলেছেন, ‘মধ্যবিত্ত হয়ে জন্মানোর চেয়ে ফকির হয়ে জন্মানো ভালো। ফকিরদের অভিনয় করতে হয় না। কিন্তু মধ্যবিত্তদের প্রতিনিয়ত সুখী থাকার অভিনয় করতে হয়।

করোনাভাইরাস সষ্টৃ পরিস্থিতিতে মানবিক কারণে বাসাভাড়া মওকফু অথবা পরে নেওয়ার দাবি উঠলেও ঢাকার বস্তির মালিকরা এরই মধ্যে ভাড়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেছেন। ১০ তারিখের মধ্যে ভাড়া পরিশোধ করার জন্য মৌখিক নোটিশও দিয়েছেন অধিকাংশ বস্তির মালিক। একই অবস্থা মধ্যবিত্তদের অনেকেই তল্পতল্পা গুটিয়ে। গ্রামের বাড়িতে ফিরে যাচ্ছে। অধিকাংশ বেসরকারি চাকরিজীবী বেতন না পাওয়ার অনিশ্চয়তায় পড়লেও বাড়িভাড়া, নৈমিত্তিক খরচের চাপে রয়েছেন। ছোট ব্যবসায়ীরা দোকান ভাড়া ও কমর্চারীদের বেতন পরিশোধ নিয়ে বিপাকে আছেন।

শেষ করতে চাই এই বলেই যে, এই করোনাকালীন মহা দুর্যোগে অনেক মধ্যবিত্ত পরিবার এরই মধ্যে নিন্মবিত্তের কাতারে চরে গেছে।তাদের আজ চোখে আজ ধূ ধূ অন্ধকার। এ ব্যাপারে সরকারের দায়িত্ব আছে। এখন সময় একটা ডাটাবেজ তৈরি করে এই সকল মানুষের পাশে দাঁড়ানো। এই শ্রেণিটির সাহায্য হিসেবে প্রয়োজন নগদ টাকা। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা বিকাশ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তাদের এই সাহায্য দেওয়া যেতে পারে। সরকার হিসেব করে একটা তহবিল গঠন করতে পারে, যা দিয়ে এই শ্রেণির লোকদেরকে সাহায্য করা যায়। তাহলে সমাজের সবাই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সরকারের সহায়তার আওতায় আসবে। বাংলাদেশের যে বিরাট মধ্যবিত্ত শ্রেণি রয়েছে, তারা যদি সরকারের মনোযোগ থেকে সরে যায়, বা আনুকূল্য হারায় তাহলে অর্থনীতির সব হিসাব উল্টে যেতে পারে। তাই সরকারকে শুধু উচ্চবিত্ত আর নিম্নবিত্ত নয়, সবাই মধ্যবিত্ত নিয়েও । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সামাজিক বিপর্যয়ে, এই সর্বনাশা সঙ্কটে মধ্যবিত্তের পাশে দাঁড়ান। এই সমাজ বিনির্মাণে এবং অর্থনীতির পুনরুজ্জীবনে তাদের ভূমিকা অনিবার্য।

লেখক : কবি-কথাসাহিত্যিক, কলামিস্ট ও গবেষক




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


এই বিভাগরে আরও খবর...
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
একটি ইওজি প্রকাশনা
উপদেষ্টা সম্পাদক : বাদল চৌধুরী || সম্পাদক : জান্নাতুন নিসা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৮ম তলা (৮০৫), রোজভিউ প্লাজা লিমিটেড
১৮৫ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা-১২০৫
ফোন : +৮৮০২৯৬৬০৬৭৬, +৮৮০২৯৬৬০৬৭৪, +৮৮০১৫৫৮০২৯৮৩৭, +৮৮০১৬৭১১৩৯৪৩০
e-mail : [email protected], [email protected]
Developed & Maintenance by i2soft
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পদক্ষেপনিউজ